স্বার্থগত ঐক্য কি দুই দেশের সম্পর্কের ভিত্তি হতে পারে?

এটা ঠিক যে স্বার্থ ছাড়া কোন ঐক্য হয়না। সেটা কথা না। স্বার্থগত ঐক্য কি আসলেই স্বার্থ রক্ষা করতে পারে? নাকি সেটা আসলে নারকেল গাছ আর দেয়ালের বন্ধুত্বের মত হয়ে যায় যারা পাশাপাশি থেকে বন্ধু বন্ধু বলে জড়িয়ে ধরে কিন্তু একজনের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য আরেকজনকে ধ্বংস হতে হয়? স্বার্থগত রাজনীতির ফলে কি এই বিষয়টাই দেখতে পাচ্ছিনা? যে পাকিস্তান একসময় আমেরিকার পক্ষে ছিল স্বার্থ বদলে যাওয়ার ফলে কি পাকিস্তানকে ভুগতে হয়নি? আমেরিকা কি তাকে ছেড়ে যায়নি?

 

তাহলে এই স্বার্থগত ঐক্যের কি  দরকার যা আপনার গরু মেরে জুতা দান করবে? স্বার্থগত রাজনীতি পরাশক্তিগুলোর জন্য চলে যারা কারো উপর নির্ভরশীল নয় বরং সবাই তাদের উপর নির্ভরশীল। তাদের ক্ষতি করার মুরোদ কোনো দেশের নেই।  কিন্তু আমরা যারা দুর্বল ছোট রাষ্ট্র তারা কি একই নীতি নিয়ে আগাতে পারে? আমরা কোন পরাশক্তির আশীর্বাদ নিয়ে শক্তি বাড়াতে গেলে অনেক প্রতিদ্বন্দি তৈরী হবে কিন্তু যখন সেই পরাশক্তি তার আশীর্বাদ সরিয়ে নিযে তখন সেই প্রতিদ্বন্দিরাই আমাদের শেষ করার জন্য এগিয়ে আসবে। যেই শক্তি নিয়ে আমরা প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে পারলামনা সেই শক্তি হারালে প্রতিপক্ষ যে আমাদের শেষ করার চেষ্টা করবে সেটা অনুমেয়। 

 

তাই আমাদের দরকার নতুন চিন্তাধারা যা আমাদের পররাষ্ট্রনীতিকে তৈরী এবং সফল করবে। এই মুহূর্তে আমাদের দরকার এমন নীতি যা আমাদের বর্তমান মিত্রদের ধরে রাখবে এবং নতুন মিত্র তৈরী করবে। আমাদের জনগণের মনমানসিকতা পরিবর্তনের জন্য আমাদের কাজ করতে হবে। কারণ সমন্বয় না থাকলে রাষ্ট্রনীতি সফল হবেনা। 

 

আমাদের এমন নীতি তৈরী করতে হবে যার ফলে আমাদের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ রক্ষা হয়। আমাদের কাজে যদি এমন কোন উদাহরণ তৈরী হয় যার ফলে মনে হয় যে আমরা শুধু স্বার্থ দ্বারা পরিচালিত তাহলে সেটা আমাদের শক্তি অর্জনে প্রধান বাধা হবে। কারণ আমাদের ভবিষ্যৎ সিঙ্গাপুর নয়, মালেশিয়া নয়। আমরা ভিন্ন এক ভৌগোলিক সীমারেখার মাঝে বসবাস করছি যেখানে শক্তি হচ্ছে শেষ কথা। আমাদের রাষ্ট্রের ডিফেন্স লাইন আমাদের সীমান্তের বাইরে। আমাদের ভবিষ্যৎ আফ্রিকায়, ককেশাসে। যদি সেখানে শক্তি সঞ্চয় না করতে পারি, তাহলে আমাদের রাষ্ট্র বেশি বছর টিকবেনা। 

 

আমাদের বুঝতে হবে কোন জিনিষটা আমাদের স্বার্থ রক্ষা করে। ভাতৃত্বের আলোকে শক্তি সঞ্চয় করা? নাকি স্বার্থগত রাজনীতির খেলা খেলে একে একে সব বিশ্বাস এবং সুযোগ হারিয়ে পরাধীন হয়ে যাওয়া। কোনটা আসলে আমাদের স্বার্থ রক্ষা করে? একটা দেশে তিনটা অংশ থাকে। জনগণ, ইন্টারেস্ট গ্রূপ, পিলার গ্রূপ। জনগণ মূলত একটা বাজার। ইন্টারেস্ট গ্রূপ হচ্ছে যারা নিজেদের স্বার্থের জন্য অন্য সবার স্বার্থ জলাঞ্জলি দেয়। আর পিলার গ্রূপ হচ্ছে যারা নিজেরা শক্তিশালী হয় আত্বমর্যাদার সাথে বেঁচে থাকার জন্য। আমাদের সেই দেশের জনগণকে নিজেদের পক্ষে রাখতে হবে, ইন্টারেস্ট গ্রূপকে নিউট্রাল করে দিয়ে ক্রমাগতভাবে নিষ্ক্রিয় করে দিতে হবে এবং পিলার গ্রূপের সাথে সম্পর্ক তৈরী করে , তাদের শক্তিশালী করে নিজেদের অবস্থানকে মজবুত করা। এই কাজের জন্য যা করার দরকার হোক তা উম্মাটিক ইউটোপিয়া বা মজলুম সালতানাত, বা খিলাফতের ধারণা তৈরী করা। এগুলো জনগণকে প্রভাবিত করবে এবং আমাদের লক্ষ্য অর্জনে সাহায্য করবে।  

Leave a Reply