সম্পাদকীয়

প্রথম সংখ্যায় পাঠকদের থেকে আমরা যে সাড়া পেয়েছি তা আশাতীত। আত্ম-পরিচয় নির্মাণের যে-যাত্রা শুরু করেছে পুনর্পাঠ, তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন সমাজের নানা ঘরনার গুণী মানুষ। ধারাবাহিকতা ধরে রাখার উৎসাহ দিয়েছেন সবাই। অনেক পাঠক ক্ষুদেবার্তায় শুভেচ্ছা পাঠিয়েছেন। জানতে চেয়েছেন, পরবর্তী সংখ্যা কবে আসবে। দুঃখের বিষয়, দ্বিতীয় সংখ্যা প্রকাশের প্রাক্কালে কোভিড-১৯ এর কারণে দেশজুড়ে লক-ডাউন শুরু হয়। একটি সংখ্যা তাই পিছিয়ে দিতে হয়। অনাকাঙ্ক্ষিত এই বিলম্ব-যন্ত্রণা পাঠক নিশ্চয় ক্ষমা করবেন।

জ্ঞানের একটি মৌলিক বিষয় হলো থিসিস ও এন্টি-থিসিস। কিন্তু এ ক্ষেত্রে যে মতবিরোধ তৈরি হয় তা সঠিক ব্যবহার করার জন্য মোখতার আহমাদ ও মাহমুদ আবদুল্লাহ রচিত প্রবন্ধ রয়েছে ‘মতবিরোধের কারণ পর্যালোচনা এবং শাহ ওয়ালিউল্লাহ’র প্রস্তাবনা শিরোনামে।

শামস আরেফিন লিখেছেন ‘জিডিপি প্রবৃদ্ধির ফাঁক-ফোকর’। দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা নিয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী আলী রিয়াজের একটি বক্তৃতা রয়েছে। এ-ধরনের আলোচনাকে কেউ কেউ ‘ধর্মীয় বিতর্কে’র সূত্র হিসেবে ব্যবহার করে থাকেন। বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে হাতেম বাজিয়ানের ‘মুসলিম সমাজে ইসলামোফোবিয়া : দীন বিনির্মাণ এবং পররাষ্ট্রনীতি’ শীর্ষক একটি অনুবাদ উপস্থাপন করা হয়েছে। ইসলামোফোবিয়া এবং সেক্যুলারিজমের বোঝাপড়া নিয়ে থাকছে খ্যাতিমান চিন্তাবিদ ফরহাদ মজহারের সাক্ষাৎকার এবং সম্প্রতি পরলোকগত মিশরীয় স্কলার মুহাম্মাদ ইমারাহ’র নিবন্ধে।

এ সময়ের প্রাসঙ্গিক নিবন্ধটি লিখেছেন পারভেজ আলম। করোনাকালে রাষ্ট্র ও জনগণের সম্পর্ক বিশ্লেষণ করেছেন তিনি বেশ কয়েকটি দার্শনিক ব্যাখ্যার সহযোগে। এবার শিক্ষা নিয়ে তিনটি আর্টিকেল মুদ্রিত হলো। তুহিন খান লিখেছেন ইসলামি জ্ঞানচর্চার ইতিহাসে নারীর সক্রিয়তা ও উত্তরাধিকার। আখি সিরাজুদ্দিন নামক একজন অনালোচিত বঙ্গীয় ব্যাকরণবিদের ইতিহাস তুলে ধরেছেন সালাহউদ্দীন জাহাঙ্গীর। দর্শন, আধ্যাত্মিকতা ও পুনর্পাঠের পর্যালোচনাসহ আরও তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ রয়েছে এ-সংখ্যায়।

আমাদের বিশ্বাস, এবার পাঠক আরও বেশি চিন্তার খোরাক পাবেন। শুভকাজে আমরা যেন পরস্পরের সহযোগী হতে পারি, এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি।

Leave a Reply