ফ্রিডম অব চয়েস এন্ড ডিটারমিনিজম : মুঈনুদ্দীন আহমদ খানের সাক্ষাৎকার

[মুঈনুদ্দীন আহমদ খান একজন ইতিহাসবিদ, দার্শনিক ও সূফী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ থেকে স্বর্ণপদক সহ স্নাতক, স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করার পর ফুল-স্কলারশিপ নিয়ে কানাডার ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আরেকটি স্নাতক ডিগ্রি করেন। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘দক্ষিণ এশিয়া’ বিষয়ে দীর্ঘদিন গবেষণা করেন; এবং কিছুদিন ইন্দোনেশিয়ায় গিয়ে গবেষণা করেন। ১৯৬১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘বাংলার সামাজিক ইতিহাস’ বিষয়ে ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন। এরপর পাকিস্তানের করাচী বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকচারার হিসাবে কর্মরত ছিলেন অনেকদিন। তিনি বিশ্ববিখ্যাত বুদ্ধিজীবী ফজলুর রহমানের সরাসরি ছাত্র ছিলেন। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ে তিনি বাংলাদেশে চলে আসেন এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রফেসর হিসাবে নিযুক্ত হন। ১৯৭২ সাথে তিনি ইসলামি ফাউন্ডেশনের প্রথম পরিচালক হিসাবে নিযুক্ত হন। বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় লিখিত তার ১৮ টি বই এবং শতাধিক প্রবন্ধ বিশ্বের নানা স্থান থেকে প্রকাশিত হয়।

‘ফ্রিডম অব চয়েস এন্ড ডিটারমিনিজম’ –এর মতো জটিল একটা বিষয়কে সহজভাবে বুঝার জন্যে মুঈনুদ্দীন আহমদ খানের সাথে কথা বলেছেন তার ছাত্র মাসুদ জাকারিয়া। মাসুদ জাকারিয়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেছেন। বর্তমানে ‘আসাবিয়াকেন্দ্রিক ইবনে খালদুনের রাজনৈতিক চিন্তা’ নিয়ে ড. মুঈনুদ্দীন আহমদ খানের তত্ত্বাবধানে একই বিশ্ববিদ্যালয়ে এমফিল গবেষণা করছেন। মুঈনুদ্দীন আহমদ খানের এ সাক্ষাতকারটি কথ্যভাষা থেকে লিখিত ভাষায় রূপান্তর করেছে ‘পুনর্পাঠ’]

***

মাসুদ জাকারিয়া: ‘ফ্রিডম অব চয়েস’ ও ‘ডিটারমিনিজম’ সম্পর্কে আপনার কাছে জানতে চাই।

মুঈনুদ্দীন আহমদ খান: ‘ফ্রিডম অব চয়েস’ মানে হলো কর্মের স্বাধীনতা। অর্থাৎ, আপনি যেটা করতে চান, সেটা স্বাধীনভাবে করার সামর্থ্য থাকা। আর, ‘ডিটারমিনিজম’ হলো স্বাধীনতার উল্টা, মানে বাধ্যবাধকতা। এই কথাটা এসেছে তকদীরের বিশ্বাস থেকে। তকদীর মানে হলো – আল্লাহ প্রত্যেকটি সৃষ্ট জীবের ইচ্ছা এবং কর্মধারা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। আল্লাহর নির্ধারণীকে তকদীর বলা হয়। আপনি তকদীরের বাইরে কোনকিছু করতে পারবেন না। আল্লাহ আপনার জন্য যেটা নির্ধারণ করে দিয়েছেন, সেটার মধ্যেই আপনাকে থাকতে হবে। যেমন ধরুন, আল্লাহ একটা গরু সৃষ্টি করেছেন। এরপর গরুর জীবন রক্ষা করার জন্য এবং তার প্রতিপালনের জন্য তার রিজিক ও তার পাওনা বরাদ্দ করে দিয়েছেন। এটাকে বলে ‘ডিটারমিনিজম’। একটা গরুর জন্য তার রিজিক আল্লাহ নির্ধারণ করে দিয়েছেন ঘাসপাতার মধ্যে, গরু হাজার চেষ্টা করেও তার শরীরকে মোটাতাজা করার জন্য গোস্ত খেতে পারবে না। গোস্ত তার রিজিকের মধ্যে নাই। একটা বিড়ালের জন্যে আল্লাহ রিজিক নির্ধারণ করে দিয়েছেন গোস্ত-মাংসের মধ্যে, বিড়াল ঘাসপাতা খেয়ে বাঁচতে পারবে না। এটা হলো তকদীর।

(বিস্তারিত দেখুন জানুয়ারি-মার্চ ২০২০ সংখ্যায়)

Leave a Reply