পরীক্ষণমূলক আধুনিক বিজ্ঞানের উৎপত্তি

[অরিজিন এন্ড ডেভেলপমেন্ট অফ এক্সপেরিমেন্টাল সাইন্স : এ চ্যালেঞ্জিং এনকাউন্টার উইদ দ্য ওয়েস্ট – মুঈনুদ্দীন আহমদ খান, বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অফ ইসলামিক থ্যট, ঢাকা, ১৯৯৭; পৃষ্ঠা-৯৪]

বাংলাদেশে ইসলামের বিজ্ঞান দর্শন প্রসঙ্গে যে বিপুল শূন্যতা রয়েছে সেখানে ড. মুঈনুদ্দীন আহমদ খানের এই মনোগ্রাফ গ্রন্থটিকে একটি শূন্যস্থান পূরণকারী মহান উদ্যোগ হিশেবে বিবেচনা করতে হবে। তিনি ইসলামের ইতিহাসে কিভাবে কোরআনের অনুপ্রেরণায় একটি পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষণমূলক বিজ্ঞানের উৎপত্তি ও বিকাশ হয়েছিল, যা পৃথিবীর জ্ঞান-বিজ্ঞানের ইতিহাসে একটি অনন্য ও অভূতপূর্ব ঘটনা, তা সবিস্তারে এখানে বর্ণনা করেছেন। তিনি দেখাতে চেয়েছেন যে প্রাচীন গ্রীসে যে বিজ্ঞান ও বিজ্ঞানের দর্শনের উদ্ভব হয়েছিল তা ছিল মূলত অনুমানমূলক ও যুক্তিবিন্যাস ভিত্তিক (Speculative and Rational)। পরবর্তীকালে ইসলামের ছায়াতলে কোরআনের অনুপ্রেরণায় যে বিজ্ঞান ও বিজ্ঞানের দর্শনের উৎপত্তি ও বিকাশ ঘটেছিল, তা ছিলো পরীক্ষণমূলক ও অভিজ্ঞতাভিত্তিক।

তার এই প্রতিপাদ্য ও দাবীকে প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে লেখক একটি সুসমঞ্জস ও সুগঠিত গবেষণামূলক সন্দর্ভ রচনা করেছেন। এতে রয়েছে সাতটি পর্যায়ক্রমিক অধ্যায়। প্রথম তিনটি অধ্যায়ে তিনি ইসলামের ছায়াতলে তার ভাষায় আল উলুম আত তাজরিবিয়া অর্থাৎ পরীক্ষণমূলক বিজ্ঞান পরিভাষার ব্যুৎপত্তিক (Etymological), ভাষা-ইতিহাসভিত্তিক (Philological) এবং শারীরতাত্ত্বিক (Morphological) বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেছেন। তিনি বয়ান করেছেন যে কিভাবে ইসলামের পরিমণ্ডলে কোরআনের সরাসরি অনুপ্রেরণায় মধ্যযুগে যে আল উলুম আত তাজরিবিয়ার উৎপত্তি ও বিকাশ হয়েছিল তা খ্রিস্টীয় তের শতক থেকে আন্দালুসিয়ার কর্ডোভা ও টলেডো হয়ে ইউরোপ ও ইংল্যান্ডে অনুবাদের মাধ্যমে সঞ্চারিত হয়েছিল। ল্যাটিন ভাষায় প্রথমে এই পরিভাষা সাইন্টি এক্সপেরিমেন্টালিস (Scientiae Experimentalis) হিশেবে আত্তীকৃত হয়। পরে তা বিখ্যাত ইংরেজ বিজ্ঞানী রজার বেকন (১২১৪ – ১২৯২) কর্তৃক ইংরেজি ভাষায় এক্সপেরিমেন্টাল সাইন্স (Experimental Science) পরিভাষা হিশেবে গৃহীত হয়েছিল।

ড. মুঈনুদ্দীন আরব মুসলিমদের আবিষ্কৃত এই নব-বিজ্ঞানের ইউরোপ যাত্রার এক পদ্ধতিগত ও শব্দতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ বিভিন্ন অনুপুঙ্খ ও অনুষঙ্গ সহকারে সবিস্তারে বয়ান করেছেন। চতুর্থ ও পঞ্চম অধ্যায়ে তিনি এই যুগান্তকারী পূর্ব-পশ্চিম মিথষ্ক্রিয়াকে ইতিহাসের আলোকে পরিস্ফুট করেছেন। আল কিন্দি, আল খোয়ারেজমি, ইবনে হাইসাম, আল বিরুনী, আল ফারাবি ও ইবনে সিনা থেকে শুরু করে ইবনে রুশদ প্রমুখ দার্শনিক ও বিজ্ঞানী কিভাবে এই পরীক্ষণমূলক বিজ্ঞানের বিকাশ ঘটিয়ে খ্রিস্টীয় একাদশ ও দ্বাদশ শতাব্দীতে মুসলিম বিশ্বে এক সোনালী যুগের অবতারণা করেছিলেন তা সবিস্তারে বর্ণনা করেছেন।

(বিস্তারিত দেখুন জানুয়ারি-মার্চ ২০২০ সংখ্যায়)

Leave a Reply