ইসলামপন্থীদের কি বুদ্ধিবৃত্তিক দীনতা রয়েছে?

যদিও আমার গবেষণার বিষয় মূলত প্রাকআধুনিক ইসলামী ঐতিহ্য নিয়ে, তথাপি “রাজনৈতিক ইসলাম” এবং বিশেষত সংস্কারবাদীদের ব্যাপারে আমার আগ্রহ আরও বেশি। এবং এটি আমার সাম্প্রতিক চিন্তার খোরাকও বটে। ২০১১ সালের গ্রীষ্মে তাহরির স্কয়ারে মিশরীয় “বিপ্লব” এর নেতাদের সাক্ষাতকার গ্রহণকালে আমার মধ্যে একটা সন্দেহের জন্ম নেয় যা বর্তমানে আরও তাকতওয়ার হয়েছে, যদিও এটি এখনও একদম সামঞ্জস্যপূর্ণ তত্ত্বের রূপ নেয় নাই। সন্দেহটা হচ্ছে সংস্কারবাদীদের, অর্থাৎ যারা মোটামুটি সংজ্ঞানুসারেই আধুনিক জাতিরাষ্ট্রের কাঠামোকে অক্ষুণ্ণ রেখেই সক্রিয়, এমন “মডারেট ইসলামপন্থীদের” কোন বিস্তৃত তত্ত্বীয় ঐতিহ্যগত ভিত্তি নাই। [১] একটি সামাজিক আন্দোলনের সাফল্য কতখানি সঙ্গতিপূর্ণ আদর্শের উপর (স্রেফ দক্ষ ফ্রেমিঙের বিপরীতে) নির্ভর করে সে সম্পর্কিত বাহাসে না গিয়ে আমি লক্ষ করি যে সশস্ত্র, নীরবতাবাদী এবং প্রো-এস্টাবলিশমেন্ট ইসলামী দলসমূহের তরফ থেকে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হওয়ার পটভূমিতে ইসলামপন্থীদের এই বুদ্ধিবৃত্তিক ঘাটতি ইসলামপন্থীদের প্রতিশ্রুত ফলাফল দেওয়ার এবং চরমপন্থার উত্থান ঠেকানোর দায়িত্ব পালনের দক্ষতাকে কমিয়ে দিচ্ছে। [২]

“রিথিঙ্কিং পলিটিকাল ইসলাম” বইয়ে ইসলামপন্থীদের ওপর চিত্তাকর্ষক বিন্যাসের অধ্যায়সমূহ ইসলামপন্থীদের সমস্যা, বিবর্তন, টিকে থাকার কৌশল, এবং ভবিষ্যত সম্ভাবনা নিয়ে অনভিপ্রেত আলোকপাত করেছে এবং ভবিষ্যত পাণ্ডিত্যের জন্য যথেষ্ট চিন্তার খোরাকের যোগান দিয়েছে। আমি আমার লেখায় এখানে শুধু “ফ্রেমিং” এবং “আদর্শের” প্রশ্নে আলোকপাত করব; এটাকে আমি বলব ডিস্কার্সিভ ট্রাডিশন বা তাত্ত্বিক ঐতিহ্য। [৩] এই দুইয়ের অর্থাৎ ফ্রেমিং এবং আদর্শের মধ্যকার পার্থক্য বেশ কিছু গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন, টেকসই, সঙ্গতি, এবং নিজের পক্ষে সুবিধাজনকভাবে কাজে লাগানো। এখানে ফ্রেমিং হচ্ছে “প্রচলিত আদর্শসমূহের উদ্ভাবনী সম্প্রসারণ ও বর্ধিতাংশ কিংবা প্রচলিত আদর্শসমূহের বিরুদ্ধে টোটকা,” এবং আদর্শ হচ্ছে “যথেষ্ট বড়, সামঞ্জস্যপূর্ণ, এবং তুলনামূলক অধিক টেকসই” বিশ্বাস এবং মূল্যবোধের সমষ্টি যা “ব্যাপ্তিশীল এবং সংহত” এবং শুধুমাত্র রাজনীতি নয় বরং পুরো জীবনের ব্যাপারেই আলোকপাত করে। [৪] যেহেতু ইসলামপন্থা নিজেকে মুখ্যত একটি প্রতিদ্বন্দ্বী আদর্শ হিসেবে দেখে (স্রেফ সামান্য বেইনসাফি অপনোদনের চিন্তার বাইরে), এই পার্থক্য হয়তোবা ন্যায্য না। তথাপি, এই পার্থক্যের একটা পরিবর্তিত রূপ উপকারী হতে পারে, যেহেতু ইসলামপন্থী কর্মীদের রাজনীতির জন্য বিশেষায়িত যে ফ্রেমিং এবং তত্ত্ব তা তাত্ত্বিক এবং মোল্লাদের ইসলামের তত্ত্বীয় ঐতিহ্য থেকে পৃথক হতে পারে, এমনকি যদিও তারা মাঝেমাঝে এসবের উপর ভর করে। আমি তত্ত্বীয় সাফল্যের ধারণাকে একটি তত্ত্বের ঘনত্ব এবং সঙ্গতির আলোকে দেখি। পূর্ববর্তী অধ্যায়সমূহ থেকে ধারণা নিয়ে আমি জানতে চাই ইসলামী আন্দোলনসমূহের “সাফল্য” কিভাবে তাদের তত্ত্বীয় সাফল্যের সাথে সম্পর্কযুক্ত। আমার যুক্তি হচ্ছে মূলধারার ইসলামপন্থীরা (যারা এই বইয়ের বেশিরভাগ চ্যাপ্টারের আলোচ্য বিষয়) বুদ্ধিবৃত্তিক ঘাটতিতে ভুগছে, এবং এই ঘাটতি আন্দোলনের ফ্রেমিং এবং গভীর আদর্শিক তত্ত্বের মধ্যে লক্ষ করা যায়।

(বিস্তারিত দেখুন জানুয়ারি-মার্চ ২০২০ সংখ্যায়)

Leave a Reply