মুসলিম বিশ্বে সেকুলারিজমের বিভিন্ন বয়ান: প্রেক্ষিত বাংলাদেশ

‎সেকুলারিজম অনেকের কাছে ‘প্রফেট অফ মডার্নিটি’ হলেও মুসলিম বিশ্বের দেশে দেশে তা ইসলাম বিরোধী মতবাদ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। সেকুলারিজম ইসলামী ঘরানার কাছে অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়, এটা আমাদের ‎জানা আছে। কিন্তু সাথে সাথে বিশ্ব পরিস্থিতির আলোকে বিষয়টি নিয়ে ‎নতুন করে ভাবার প্রয়োজন আছে।  ‎

মক্কায় মুসলমানদের কোনো অধিকার ছিল না। নিরাপত্তা ছিল না। মহানবী (স) ‎সাহাবিদের বললেন, ‘তোমরা হাবশায় চলে গেলে ভালো হয়। সেখানে এমন ‎একজন বাদশাহ আছেন যার রাজ্যে কারো প্রতি জুলুম হয় না। সেটি কল্যাণের ‎দেশ। যতদিন পর্যন্ত না আল্লাহ তোমাদের এ বিপদ দূর করে দেন ততদিন তোমরা ‎সেখানে অবস্থান করবে।’(১)  হাবশার বাদশাহ নাজ্জাশী ছিলেন একজন অমুসলমান, ‎খ্রিস্টান। মহানবী (স) নাজ্জাশীর প্রশংসা করলেন এবং মুসলমানরা তাঁর দেশে হিজরত করলে তিনি মুসলমানদের নিরাপত্তা ‎দিলেন। মক্কার আবু জাহেলরাও ছিল অমুসলমান। বর্তমান সময়ের বিচারে দুটি ‎দেশই সেকুলার রাষ্ট্র ছিল। একটা ছিল ভিন্নমত বা ভিন্নধর্মের প্রতি সহনশীল ও ‎শ্রদ্ধাশীল। অপরটি ছিল পরমতের প্রতি চরম অসহিষ্ণু ও শত্রুভাবাপন্ন। ‎

মহানবী (স) মদিনায় হিজরত করলেন। হিজরতের আগেই সেখানে তাঁর জন্যে ক্ষেত্র তৈরি হয়ে যায়। তাই মদিনায় ইসলামকে বিজয়ী করতে তাঁকে ‎লড়াই করতে হয়নি। বিনা বিতর্কে তাঁকে সেখানকার অধিবাসীরা শাসক হিসেবে ‎গ্রহণ করে নিলো। তিনি সেখানে ভিন্ন মতের লোকদের অধিকার দিলেন। ন্যায়বিচার ‎ও সাম্য কায়েম করলেন। বললেন, ধর্ম যার যার, কিন্তু রাষ্ট্র সকলের। বনু আওফের ইহুদীরা মু‘মিনদের সাথে একই উম্মাতভুক্ত বলে গণ্য হবে, তারা নিজে এবং তাদের মিত্ররাও; মুসলমানরা ও ইহুদীরা সে অবস্থায় নিজ নিজ ধর্ম পালন করবে; কিন্তু সবাই মিলে ‎মদিনা রাষ্ট্রকে রক্ষা করতে হবে।(২)

(বিস্তারিত দেখুন জানুয়ারি-মার্চ ২০২০ সংখ্যায়)

২টি মন্তব্য

Leave a Reply